৩০ মার্চ ২০১২ - ১৯:৩০

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনা’র সাংস্কৃতিক বিভাগ : ড. সাইয়্যেদ যাইনুল আবেদীন শাহরিস্তানী, ১৯৪২ সালে ইরাকের পবিত্র কারবালা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। পারিবারে ধর্মীয় আলেমের উপস্থিতি এবং ধর্মীয় জ্ঞান চর্চা কারণে তিনি কৈশোরেই হাওযা ইলমিয়া’র (ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) পড়াশুনা শুরু করেন। সাদ্দাম সরকারের যুগে বিদ্যমান চাপের কারণে তিনি এ ইরাক হতে পলায়ন করে ইরানে আসেন এবং ইরানে পড়াশুনা অব্যাহত রাখেন।

ড. শাহরিস্তানী কয়েক বছর যাবত কানাডায় অবস্থান করছেন এবং এদেশে ধর্মীয় ও শিক্ষার বিষয়ে তৎপরতার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি কানাডায় ‘দারুল হিকমাহ’ (কানাডিয়ান হাউস অভ ওয়্যাইসডম) নামক একটি ইনস্টিটিউটও চালু করেন। তিনি বিভিন্ন দেশে সফর করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন সক্রিয়তার স্বাক্ষর রেখেছেন।

আয়াতুল্লাহ আল উজমা সিস্তানী’র পূর্ণক্ষমতা প্রাপ্ত প্রতিনিধি ‘হুজ্জাতুল ইসলাম সাইয়্যেদ জাওয়াদ শাহরিস্তানীকে কে না চেনে, তিনি হচ্ছেন তার সহোদর।

আগামীতে যা কিছু পড়বেন তা হচ্ছে আবনা প্রতিবেদককে দেওয়া ড. শাহরিস্তানী’র সাক্ষাতকার। তিনি এ সাক্ষাতকারে কানাডার শিয়াদের বর্তমান অবস্থা এবং ‘দারুল হিকমাহ’ ইনস্টটিউটের তৎপরতা সম্পর্কে কথা বলেছেন।

 

-কত সালে কানাডায় গেছেন এবং ‘দারুল হিকমাহ’ ইনস্টিটিউট কিভাবে চালু করলেন?

-প্রায় ১০ বছর পূর্ব হতে কানাডায় অবস্থান শুরু করেছি। মন্ট্রিঅল শহরে শিয়াদের ২০টি মসজিদ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও ইমামবাড়ী রয়েছে। ইরাক, ইরান ও পাকিস্তানের অনেক শিয়া মন্ট্রিঅল শহরের উপযুক্ত সাংস্কৃতিক অবস্থার কারণে এ শহরে বসবাস করে। এ পরিবেশের বিষয়টি মাথায় রেখে যুব সমাজকে ইসলামি শিক্ষায় পরিচিত করে তুলতে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। এর পাশাপাশি এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অমুসলিমদেরকে ইসলামের সাথে পরিচিত করে তোলায় এ প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্দেশ্য। সুতরাং বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটি রেজিষ্ট্রি করি এবং প্রাথমিক স্কুল, হাইস্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও হাওযা ইলমিয়া পর্যায়ে তৎপরতার জন্য অনুমোদন পাই।

 

-ভার্চুয়াল ইউনিভার্সিটির কার্যক্রম সম্পর্কে বলুন।

যেহেতু ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের ভার্চুয়াল ইউনিভার্সিটির ব্যাপক প্রচলন চোখে পড়ার মত তাই ইউরোপ ও আমেরিকাসহ ইরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে আমরা চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। আমরা কানাডীয় ছাত্রদেরকে ভর্তি নিয়ে এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সংযুক্ত করে দেই। যাতে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোড গ্রহণ ছাড়াও ভার্চূয়াল জগতে ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সুবিধা লাভ করতে পারে। কিন্তু এ সকল ছাত্রদের পরীক্ষা আমরা নিজেরাই গ্রহণ করে থাকি।

অনার্স কোর্সের আইন বিভাগে কোম বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্যবস্থাপনা ও দর্শন বিভাগে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে আমাদের চুক্তি রয়েছে। কোর্স শেষ হওয়ার পর ইরানের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সত্যায়নে যৌথভাবে তাদেরকে সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামি ক্লাসসমূহের লেকচার ইংরেজী ভাষায় প্রদাণ করা হয় এবং ফার্সি ভাষা শিখতে আগ্রহী ইংরেজী ভাষাভাষী ও ফরাসী ভাষাভাষীদের জন্য দু’টি আলাদা ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

 

-আপনাদের শিক্ষক ও গভর্নিং বোর্ডে কারা রয়েছেন?

এর গভর্নিং বোর্ডের সদস্য সংখ্যা ২০ জন এবং উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য সর্বমোট ৬০ জন। এ সকল ব্যক্তিত্বরা বিভিন্ন দেশের নাগরিক ও বিভিন্ন ধর্মের অনুসারী।

 

-হাওযা ইলমিয়াহ’র জন্য অনুমোদন লাভের প্রতি ইশারা করেছেন, সে সম্পর্কে কিছু বলুন।

হাওযা ইলমিয়ায় অধ্যয়নরত ছাত্ররা ইরান এবং আরব দেশসমূহের নাগরিক। তাদেরকে দরসে খারিজ ছাড়া সকল পর্যায়ের ক্লাস ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রদান করা হয়ে থাকে। হাওযা ইলমিয়াতে ১০ সহস্রাধিক ছাত্র নাম নিবন্ধন করেছে এবং এ সকল ছাত্রদেরকে প্রচলিত সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে। বলাবাহুল্য, ছাত্রদের নিকট হতে খরচ বাবদ কোন অর্থই গ্রহণ করা হয় না।

 

-কোন পত্রিকা বা সাময়িকী প্রকাশ করেন কি?

এ প্রতিষ্ঠানের পক্ষ হতে যুব সমাজের জন্য ফারসী, আরবী, ইংরেজী ও ফরাসী মোট চারটি ভাষায় পত্রিকা প্রকাশিত হয়। যা যুব সমাজের মাঝে প্রভাব সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে এবং বিভিন্ন দেশের ব্যক্তিত্বরা এ পত্রিকার জন্য লেখা প্রেরণ করে থাকেন।

 

-এ প্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণের জন্য কি কি কর্মসূচী হাতে নিয়েছেন?

যুবকদেরকে আহলে বাইত (আ.) এর শিক্ষার সাথে পরিচিত করার লক্ষ্যে তাদেরকে বিভিন্ন ইসলামি দেশের হাওযা ইলমিয়া সফরের জন্য প্রেরণের চেষ্টা চালাচ্ছি। আমাদের গ্রন্থাগারটি বর্তমানে মন্ট্রিঅল শহরের শিয়াদের সবচেয়ে বড় গ্রন্থাগার হিসেবে বিবেচিত; এতে ১০ সহস্রাধিক গ্রন্থ রয়েছে। এছাড়া ইংরেজী ভাষায় মুবাল্লিগদের প্রশিক্ষণ দান এবং একটি ইসলামি ও ইরানি বুকস্টল চালু করার চেষ্টায় আছি।

 

-এ প্রতিষ্ঠানের বাজেটের ব্যবস্থা কিভাবে হয়?

কানাডায় আসার শুরু হতেই ব্যবসা শুরু করি। আর এ কারণেই এ প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও চালু করার জন্য কারো কাছ থেকে কোন অর্থ গ্রহণ করিনি। অবশ্য শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিষয়ে সক্রিয় সকল প্রতিষ্ঠানকে কানাডা সরকার জন প্রতি কিছু অর্থ প্রদান করে।

 

-অন্য দেশে কি আপনাদের শাখা অফিস রয়েছে?

লেবানন, ইরাক, ইংল্যান্ড, ইরান, সিরিয়া, সৌদি আরব, তিউনিশিয়া ও মরক্কো’তে আমাদের শাখাসমূহ সক্রিয় রয়েছ।

 

-কানাডার শিয়াদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কিছু বলুন।

মন্ট্রিঅল শহরে ১ লক্ষাধিক শিয়া বসবাস করে; যাদের মধ্যে ৬০ হাজার হচ্ছে